আমাদের গ্রাম
২০১৫ সালের ৫ই এপ্রিল এর ১৫
তারিখের বড়ও শিলা বৃষ্টিতে
কুশলীবাসা গ্রামের ক্ষতির
পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা
কুমারখালী প্রতিনিধি: কুমারখালী থানার অর্ন্তগত কুশলীবাসা গ্রাম, আর এই গ্রামের নামকরণ হয়েছিল, (ছাগলার ধারের রাস্তার দু’পাশে বাগান ও সিঁদুর তলা তার ঠিক মাঝামাঝি রাস্তা দক্ষিণ পাশে বাগদাদ থেকে আসা মহান আল্লাহর অলি কুশল দেওয়ান বুজুর্গের দরগা শরীফ, যার নাম অনুসারে এই কুশলীবাসা গ্রামের নামকরণ হয়েছিল।) এই গ্রামের পূর্বপাশ দিয়ে এক সময়ের খরস্রোতা ছাগলানদী যা এখন রাখালে রুপান্তরিত হয়েছে তার পশ্চিম পাড়ে ছাগলাপাড়া নামক এক বিশাল পাড়া। এই পাড়ার আদমমোড়ে পশ্চিম পূর্ব লম্বা কাঁচা রাস্তা যাহা ছাগলাপাড়ার মধ্যেদিয়ে নিয়ামত বাড়ী গ্রামের উত্তরপাড়ার গা ঘেঁষে মোহন নগর হয়ে পান্টির দিকে চলে গেছে।এই ছাগলাপাড়ার পূর্ব প্রান্তে ছাগলার ধারে দু’পাশে আম, জাম, বাবলা, বট, শেওড়া, পাকুড়, আকাশ মনি, মেহগনি সহ অন্যান্য অনেক প্রজাতির গাছের ঘন বাগান রাস্তার দু’পাশের এই বনে বাস করে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, ইঁদুর, ব্যাঙ, বেজি, শিয়াল, খেকশিয়াল ইত্যাদি প্রাণি। উল্লেখিত বাগান এলাকার যত পাখিকুল সারাদিন যেখানে্ই থাকুক না কেন? সন্ধার প্রাক্কালে গোমুলি গন্ধে সব পাখি উড়ে এসে দু’পাশে যে বাগান সেখানে তারা জীনব যাপন করত।কিন্তু ৫ই এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখে রবিবার দিবাগত রাত্রী তা আনুমানিক ৩ টার সময় এই গ্রামের পশ্চিম দিকের আকাশে একটু একটু মেঘ দেখা গেল। আনুমানিক ৩.১৫ মিনিট এর সময় মেঘে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো সহ বিকট আকরে আকাশে মেঘের গর্জন শুরু হয়ে যায়।দুই এক ফোটা বৃষ্টি মাটিতে পড়তে থাকে, ঐ সময়ে (আব্দুল মান্নান ইলু নামের এক কৃষক মাঠে পিয়াজ উঠাচ্ছিল।) তার বর্ণনা মতে সে আনুমানিক ৩.২০ মিনিটে দৌড়ে মাঠের এক প্রান্তে এক বাড়িতে আশ্রয় নেয় তিনি আরো বলেন আনুমানিক ৩.২৩ মিনিটের সময় পশ্চিম আকাশ হতে প্রচন্ড বেগে ঝড় সহ শিলা বৃষ্টি শুরু হলো। ইলুর বর্ণনা মতে, মনে হচ্ছিল কেউ যেন আকাশ থেকে ধামায় করে শিলা গুলো ঢেলে দিচ্ছে এবং ঝড়ের দাপটে ঐ শিলা গুলো তীরের বেগে এসে টিনের ঘরের চালে জোরে জোরে আঘাত করায় টিনগুলো ছিদ্র হয়ে যায়, ঐ ছিদ্র দিয়ে পানি ঘরের ভিতর ঢুকে সব ভিজিয়ে দিচ্ছিল।



এই ৮ মিনিটের তান্ডবে
পাড়ার ভিতর সহ ছাগলার ধারের অনেক গাছ-গাছালি উপড়ে পড়ে, ডাল-পালা ভেঙে চুরমার
হয়ে যায়। রাস্তার দু’পাশের ২টি বাগানে পাখি মারা গিয়েছিল ১৯০০৮টি।



“ফিরে
দেখা”
তারিখের বড়ও শিলা বৃষ্টিতে
কুশলীবাসা গ্রামের ক্ষতির
পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা
কুমারখালী প্রতিনিধি: কুমারখালী থানার অর্ন্তগত কুশলীবাসা গ্রাম, আর এই গ্রামের নামকরণ হয়েছিল, (ছাগলার ধারের রাস্তার দু’পাশে বাগান ও সিঁদুর তলা তার ঠিক মাঝামাঝি রাস্তা দক্ষিণ পাশে বাগদাদ থেকে আসা মহান আল্লাহর অলি কুশল দেওয়ান বুজুর্গের দরগা শরীফ, যার নাম অনুসারে এই কুশলীবাসা গ্রামের নামকরণ হয়েছিল।) এই গ্রামের পূর্বপাশ দিয়ে এক সময়ের খরস্রোতা ছাগলানদী যা এখন রাখালে রুপান্তরিত হয়েছে তার পশ্চিম পাড়ে ছাগলাপাড়া নামক এক বিশাল পাড়া। এই পাড়ার আদমমোড়ে পশ্চিম পূর্ব লম্বা কাঁচা রাস্তা যাহা ছাগলাপাড়ার মধ্যেদিয়ে নিয়ামত বাড়ী গ্রামের উত্তরপাড়ার গা ঘেঁষে মোহন নগর হয়ে পান্টির দিকে চলে গেছে।এই ছাগলাপাড়ার পূর্ব প্রান্তে ছাগলার ধারে দু’পাশে আম, জাম, বাবলা, বট, শেওড়া, পাকুড়, আকাশ মনি, মেহগনি সহ অন্যান্য অনেক প্রজাতির গাছের ঘন বাগান রাস্তার দু’পাশের এই বনে বাস করে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, ইঁদুর, ব্যাঙ, বেজি, শিয়াল, খেকশিয়াল ইত্যাদি প্রাণি। উল্লেখিত বাগান এলাকার যত পাখিকুল সারাদিন যেখানে্ই থাকুক না কেন? সন্ধার প্রাক্কালে গোমুলি গন্ধে সব পাখি উড়ে এসে দু’পাশে যে বাগান সেখানে তারা জীনব যাপন করত।কিন্তু ৫ই এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখে রবিবার দিবাগত রাত্রী তা আনুমানিক ৩ টার সময় এই গ্রামের পশ্চিম দিকের আকাশে একটু একটু মেঘ দেখা গেল। আনুমানিক ৩.১৫ মিনিট এর সময় মেঘে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো সহ বিকট আকরে আকাশে মেঘের গর্জন শুরু হয়ে যায়।দুই এক ফোটা বৃষ্টি মাটিতে পড়তে থাকে, ঐ সময়ে (আব্দুল মান্নান ইলু নামের এক কৃষক মাঠে পিয়াজ উঠাচ্ছিল।) তার বর্ণনা মতে সে আনুমানিক ৩.২০ মিনিটে দৌড়ে মাঠের এক প্রান্তে এক বাড়িতে আশ্রয় নেয় তিনি আরো বলেন আনুমানিক ৩.২৩ মিনিটের সময় পশ্চিম আকাশ হতে প্রচন্ড বেগে ঝড় সহ শিলা বৃষ্টি শুরু হলো। ইলুর বর্ণনা মতে, মনে হচ্ছিল কেউ যেন আকাশ থেকে ধামায় করে শিলা গুলো ঢেলে দিচ্ছে এবং ঝড়ের দাপটে ঐ শিলা গুলো তীরের বেগে এসে টিনের ঘরের চালে জোরে জোরে আঘাত করায় টিনগুলো ছিদ্র হয়ে যায়, ঐ ছিদ্র দিয়ে পানি ঘরের ভিতর ঢুকে সব ভিজিয়ে দিচ্ছিল।

রাত্রী আনুমানিক ৩.৩১ মিনিটের সময় শিলাপড়া বন্ধ হয়ে গেলেও ঝড়
তখনও হচ্ছিল এই শিলা বৃষ্টি মাত্র ৮ মিনিট স্থায়ী ছিল। আর এই ৮ মিনিটে মাটির উপর ১৮
ইঞ্চি পুরু হয়ে শিলা পড়ে এক স্তুপে পরিনত হয়ে যায়।


আশে পাশের অন্য কোন বাগানের তেমন কোন তথ্যাবলি পাওয়া যাইনি বলে
এলকার জনগন জানাই। এই বাগানের বন্দ্র বোরা সবে মারা গিয়েছে ১টি ও ইঁদুর ১টি এবং ১টি
সাপ যার লম্বা ছিল সাড়ে ৪ হাত। ৫০০ ফুট দুরে সিঁদুর তলা বাগানে ৩টি সাপ মারা গিয়েছিল
দাড়াঁশ সাপ ১টি ১৫ হাত, আর ২টি গোখরা লম্বায় ছিল সাড়ে ৩ হাত, এই সিদুঁর তলার মাজারের
ব্যাপার হলো এই দরগাই একটিও পাখি বা সাপ কিছুই মারা যায়নি, এমনকি একটি গাছের ডালপালা
ভাঙে নাই। এই ৮ টি মিনিট স্থায়ী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ছাগলার আশেপাশে মাঠের উঠতি ফসল
গম, পিঁয়াজ, ধান, রসুন, বেগুন ও পটল ফসলের আর কিছুই অবশিষ্ট নাই, সব কিছু মাটির সাথে
মিছে গেছে।
মাঠের মধ্যে কলা বাগানের গাছ গুলি মনে হচ্ছে কে যেন আগুন লাগিয়ে
দিয়ে তা পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গাছের ছাল বাকলা তুলে দিয়েছ। মাঠের যত মেহগনি, বেইনট্রি,
আকাশ মনি ও মাঝরি গাছের বাগান ছিল তা মনে হচ্ছে প্রথমে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ডালপালা সহ
গাছ ভেঙে ফেলা হয়েছে। যে গাছগুলো এখনও খাড়া অবস্থায় আছে তাও পুড়ে লাল বর্ণ রূপ ধারন করেছে। ঐ সব গাছে কোন পাতা ও চিকন
ডালপালা কিছুই নেই। ছাগলাপাড়ার ভিতরের বাড়ি ঘরের ঢেউটিন প্রায় বাড়িতেই শিলার আঘাতে
মোটামোটি অসংখ্য ছিদ্র হয়ে গেছে। এই পাড়ার কোন বাড়িতে বসবাসের উপযোগি ছিল না। সরজমিনে
যেয়ে দেখা যায় যে, (ঐ পাড়ার কৃষক
মো: মোস্তফা জামান, আলম বিশ্বাস, আলী হোসেন সহ অনেক কৃষকের ঘরের চাল বলতে আর কিছুই
নেই, আরো জানা যায় যে, মহিউদ্দিন নামের এক কৃষকের বাড়িতে ৬টি ঘরের একটিও বসবাস করার
মতো নাই।) তারা খোলা আকাশের নিচে জীবন-যাপন করছে, এই
গ্রামের জনগন বলেছেন যে, এই রকম ভয়াভহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের
পূর্বপুরুষেরা দেখেননি। ধান ও সবজি চাষীদের এবারের বেঁচে থাকার
মতো কোন ব্যবস্থাই নেই।(৫ তারিখের বড় শিলা বৃষ্টিতে ৪ টি গ্রামের
ক্ষয় ক্ষতির কথা জানা যায়, যথা: ১। কুশলীবাসা, ২। প্রত্যাপপুর, ৩। নিয়ামতবাড়ীর কিছু
অংশ ও ৪। বরইচারা।) আর এই সব গ্রামের ক্ষতির পরিমান হবে ৫০ কোটি
টাকা।









0 Comments
"আসসালামু ওয়ালায়কুম”
আমার ওয়েবসাইটে আপনাদের জানাই স্বাগতম। আপনাদের মন্তব্য না পেলে আমার পোস্ট করা বৃথা যাবে। তাই মন্তব্য করে জানাতে ভুলবেন না এই পোস্টটি আপনার কেমন লেগেছে? আর কোন সমস্যা হলে বা কোন
কিছু জানার থাকলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।
ধন্যবাদ।